টোকিওতে জাকির সালামের একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী

‘Yotsuba no Kuroba-

Future of Hope’

চার্ পাপড়ির ক্লোভার

ক্যানভাসে আশা জাগানীয়ার গল্প।

টোকিওর শিবুইয়ার এক মর্যাদাবান গ্যালারিতে চলছে ‘Future of Hope’ শীর্ষক এককচিত্রকর্ম প্রদর্শনী। জাপান প্রবাসী শিল্পী জাকির সালামের আঁকা পনেরোটি শিল্পকর্ম এবংফাইলে আশিটি ড্রইংয়ের বেশি চিত্রকর্ম রয়েছে প্রদর্শনীতে।

গতকাল রোববার বিকেলে বেশ কজন জাপানী শিল্পরসিক ব্যাক্তিদের সাথে নিয়ে প্রবাসীবাংলাদেশীদের উপস্হিতিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

শিবুইয়া স্টেশন সংলগ্ন শিবুইয়া ২-১৯-১৫ ঠিকানার সদ্য নির্মিত মিয়ামাসু বিল্ডিং এর ৩০১-৩০২ নং কক্ষের বিশাল গ্যালারীটি জাকির সালামের প্রদর্শনী দিয়েই উদ্বোধন করা হয় স্বত্যাধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীটি ৮ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলবে।

জাকির সালাম বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং থেকে ২০০০ সালে স্নাতক ও ২০০২ সালে মাস্টার্স করেন। ২০০৯ সালে মনোবুকাশ মনোবসুস্কলারশিপ নিয়ে জাপানে আসেন এবং ২০১২ সালে।

Tokyo University of Art থেকে Masters in oil printing, materials and technique এমাস্টার্স সম্পন্ন করেন।২০০৯ সাল থেকে তিনি জাপান প্রবাসী।

চারুকলার বি এফ এ , এম এফ এ দুটোতেই প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে তুখোরছাত্র হিসেবে ২০০৫ সালে Prime Ministers Gold Medal Award ও Hon’s এ ভালোফলাফলের জন্য Zainul Abedin memorial Award পান।দেশে ও প্রবাসে তার অসংখ্য এককও গ্রুপ প্রদর্শনী হয়েছে,প্রচুর ওয়ার্কশপের অভিজ্ঞতা তার জ্ঞানভান্ডারে।

ছবির বিষয় ভাবনা কি, প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে জাকির সালাম বলেন….

চার্ পাপড়ির ক্লোভার
ক্যানভাসে আশা জাগানীয়ার গল্প

করনার মহামারীতে ভয়ঙ্কর ভন্ডামিতে মানব জাতিতে শ্রেষ্ঠত্বের চালাকিতে সব কিছু যখন স্থবিরতখন আসার ভবিষৎ হিসাবে চার পাপড়ির ক্লোভার এর অন্তর্নিহিত কল্পনাকে আমি বেছে নেই। ভিন্ন ভিন্ন রঙের মানুষের বন্ধনেই ভবিষতের আশা লুকাউইতো আছে ‘Future of Hope’ আন্তজাতিক আর্ট ইভেন্ট আয়োজক Durjoy Bangladesh,

এখন পৃথিবীতে শুধু মাত্র ট্রাম্প কার্ড আর diamond ♦️ কার্ড বাকি আছে। হার্ট আর ক্লোভারকার্ড হারিয়ে গেছে। আছে জোকার কার্ড!!

হার্ট আর ক্লোভার কে ফিরিয়ে আনা আশা জাগানিয়া শিল্পকর্ম আঁকার তীব্র বাসনা থেকেএকশোর উপর ড্রয়িং ebong স্কেচ করে এই শিল্পকর্ম গুলো আঁকা শুরু করি. হাতের বন্ধনটাইআমার কাছে বেশি গুরুত্ব পায়, মানব মানবীর স্পোরশো অনেক সম্যসার সমাধান করতে পারে।
প্রেমিক প্রেমিকার ,পিতা মাতা সন্তানের , সুস্থ অসুস্থ সকলের হাতের বন্ধন দৃশ্যত অদৃশ্যত।

এর জন্য আমাকে অনেক রকম ভাবে ড্রয়িং এবং স্কেচ করে কল্পনার সাথে বাস্তবের মেলবন্ধন করতে হয়েছে ।
শিল্পকর্মের উপকরণ গুলো বিষয়ে বস্তুর সাথে মিল রেখে নির্বাচন করেছি। জাপানীস স্বর্ণেরপাতা রুপার পাতা দস্তার পাতা টিন পাতা অ্যালুমিনিয়াম এর পাতা এমিরাল্ড পাথরের লাপিস লাজুলি পাথরের গুঁড়া বিভিন্ন ধরণের পাথরের গুঁড়া বিশেষ ভাবে তৈরী জেলাটিনআঠার সাথে মিশিয়ে কাগজ ক্যানভাস কাঠের প্যানেল এর উপর আঁকা হয়েছে।

মোটা দাগে আমার বক্তব্য হলো :

মহামারীর মহাদুর্যোগে, যুগ যুগের ভয়ঙ্কর ভণ্ডামির, সময় অসময়ের সন্ধিক্ষনে, ক্ষনিকেরপ্রেরণা-

প্রেয়সীর হাতে, সন্তানের অস্তিত্বে , পিতা মাতার আবেগে, আপন পর সকলের ভরসার ভারহীন

স্পর্শে -হাতে হাত, একই হাতে একতা,

ভাবনার গহীনে, গহন অরণ্যে , অন্তরে অন্তরে আন্তরিকতার অন্তে, লাল সূর্য্যের গোলাকার সম্ভাষণই হলো আশা ,

আমার বেঁচে থাকা –

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধ্যাপক আকিরা ইয়ামামোতো জাপানের সাথে বাংলা ভারতের সাথেসম্পর্কের ক্ষেত্রে ওকাকুরা তেনসিন এক ভূমিকার কথা চমৎকারভাবে বলেন।জাপানের কলাশিল্পে অসামান্যঅবদানের জন্য তিনি চিরস্মরণীয়।বহির্বিশ্বে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার কালজয়ী পুস্তক The Book Of Tea এর জন্যে।

প্রবাসী লেখক ও গবেষক প্রবীর বিকাশ সরকার বাঙালির সাথে জাপানের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

ওকাকুরার আদর্শে বাংলার বিপ্লববাদকে যেমন ওকাকুরা প্রাণ দিয়েছিলেন তেমনি বাংলার চিত্রকলার নবজাগরণেরনায়কদের চিন্তাভাবনাকেও তার ভাবধারা পরিপুষ্টি দান করেছিলো। ওকাকুরার উদ্যোগে জাপানের টাইকান প্রমুখ বিখ্যাত কয়েকজন শিল্পী এদেশে এসে চিত্রচর্চা শুরু করেন, এইভাবেই জাপানের শিল্পশৈলীর সাথে ভারতীয় বাঙালি শিল্পীর পরিচয় ঘটে।

প্রবাসীদের পক্ষ থেকে মোতালেব শাহ আইয়ুব কবিতা পড়েন,ঢাকা চারুকলার প্রাক্তন ছাত্রসলিমুল্লাহ কাজল রকি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দীর্ঘ কবিতা “দূই বিঘা জমি”আবৃতি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।ফটো জার্নালিস্ট খন্দকার আনিস,সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক,আল মামুন ও আইটি-বিশেষজ্ঞ কৌশিক সেন চিত্রকর জাকির সালামকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

জাকির সালাম করোনাকালীন দূর্যোগে তার প্রদর্শনীতে উপস্হিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

করোনা ভাইরাসের সাথে আমাদের এখনও লড়াই চলছে।আমাদের সামনে এখন ‘নতুনস্বাভাবিকতায়’।জীবন থেমে থাকার নয়। ধ্বংসের পাহাড় ডিঙিয়ে মানুষ উঠে দাঁড়ায়, আমরাওদাঁড়াচ্ছি। কোলাহলের নগর আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। এ চলায় আমরা আরও সহমর্মী হব।জীবনের জয়গান গেয়ে সমাজ, সভ্যতাকে এগিয়ে নেব সেটাই হোক Future of Hope.

কাজী ইনসানুল হক
টোকিও

About S Chowdhury

Check Also

ভূমধ্যসাগরে ডুবে ৭৪ শরণার্থীর মৃত্যু

ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলের কাছে একটি রাবারের ভেলা ডুবে অন্তত ৭৪ শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। খবর আল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *