জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সুগার দায়িত্ব গ্রহন , মন্ত্রী পরিষদ গঠন এবং প্রথম সংবাদ সম্মেলন

রাহমান মনি
জাপানের ৯৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার নির্বাচিত হয়েছেন ইয়োশিহিদে সুগা।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৬২ টি ভোটের মধ্যে ৩১৪টি ভোট নিজের পক্ষে নিতে সক্ষম হন সুগা। আর উচ্চ কক্ষে তার দলের সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকায় তার বিজয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আর কোন বাধা থাকে না।

ইতোমধ্যে সুগা তার দল লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টির দলীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছিলেন। মোট ৫৩৪ টি ভোটের মধ্যে সুগা পান ৩৭৭টি ভোট আর তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা মিলে পান ১৫৭ ভোট। এরমধ্যে কিশিদা পান ৮৯ ভোট এবং ইশিবা পেয়েছেন ৬৮ ভোট। এই দুজন মিলে সুগার অর্ধেক এর চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন।

জাপানের নিয়মে ক্ষমতাসীন দলের প্রধানই প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকেন। সেই হিসেবে ৭১ বছর বয়সী ইয়োশিহিদে সুগা ৯৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহন করেন ।

দায়িত্ব গ্রহন করে সুগা ২৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করেন। মন্ত্রীসভায় দুইজন নারী স্থান পান ।

সুগার মন্ত্রীসভার বিশেষত্ব হল দলীয় সভাপতি নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকদের মধ্যে কারোরই নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি। যেটা তাঁর পূর্বসূরি আবের বেলায় ছিলনা।

সুগা তার মন্ত্রীসভায় তার পূর্বপদ চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি হিসেবে কাতসুনোবু কাতো কে নিয়োগ দিয়েছেন। কাতো এর আগে আবের মন্ত্রীসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

সুগা আবের মন্ত্রী পরিষদের তেমন কোন রদবদল করেননি । দুই একটি ছাড়া। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর প্রায় সবাই স্বপদে বহাল রয়েছেন। কেবল প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় ছাড়া । প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে তারো কোনোকে সরিয়ে নোবুও কিশিকে তিনি সেই পদে নিয়োগ দিয়েছেন । কিশি শিনজো আবের ভাই। কোনোকে দেয়া হয়েছে প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রণ সংস্কার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে স্বপদে বহাল আছেন অর্থমন্ত্রী তারো আসো, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী হিরোশি কাজিয়ামা এবং পরিবেশমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। শিনজিরো কোইজুমি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জুনইচিরো কোইজুমির ছেলে। এরা সবাই সুগাকে দলীয় নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছিলেন ।

বুধবার শপথ গ্রহণের পর দিনশেষে রাতে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা‘জাপানকে পুনর্গঠন করা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।’বলে জানান ।

বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় শুরু হয়ে সাড়ে ৯টায় শেষ হয় সংবাদ সম্মেলনটি। এ সময়ে ইয়োশিহিদে সুগা তার সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং টোকিও অলিম্পিক আসরকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে।’

করোনায় দেশটির তেত্রিশ লাখ নারীসহ চল্লিশ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পরেছে জানিয়ে সুগা বলেন, তাদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে কাজ করতে হবে। জাপানকে সকলের বসবাস বান্ধব করে গড়ে তোলা আমার সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ।’

সুগা আরো বলেন , ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাপান কে একটি নিশ্চিত ও বাস্তবমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করে যেতে হবে আমাদেরকে। যেখানে শিশুরা খেলাধুলা , পড়াশুনা শেষে নিশ্চিত কর্মক্ষেত্র পাবে , কর্মজীবী মায়েরা তাদের হাতকে কাজে লাগিয়ে জাপানকে আরো আরো উন্নতির চরম শিখরে নিতে যেনো পারে সেই লক্ষেই আমার সরকার কাজ করে যাবে।

সুগা বলেন , বর্তমান কোভিড ১৯ আমরা একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। খুব শীঘ্রই আমরা তা অতিক্রম করে আগামী এপ্রিল ২০২১ জাপান ব্যাপী সাকুরা উৎসব পালন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুগা।

জাপানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের খরচ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি এই খরচ কমাতে কাজ করবেন বলে জানান।

বহির্বিশ্বের সঙ্গে পূর্বসূরি শিনজো আবের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং জাপানের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রেখে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নেও তার সরকার কাজ করে যাবে বলে যোগ করেন তিনি।

নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বুধবার সকালে আবের মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে প্রায় আট বছর ধরে তাঁকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার জন্য জাপানের জনগণ এবং তার সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। আবে বলেন, কঠিন এক সময়ে সংকট উত্তরণে দেশকে সাহায্য করার যথাসাধ্য চেষ্টা তিনি করে গেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় জন সমর্থন ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। আর যাত্রায় তাকে নিরলস সহযোগিতা করে গেছেন তার সহযোদ্ধারা।

প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিলেও সংসদ সদস্য থেকে যাওয়ার উল্লেখ করে আবে তার সমাপনী বিবৃতিতে আরও বলেছেন যে একজন আইন প্রণেতা হিসেবে জনগনের পাশে থেকে, জনগণকে নিয়ে উত্তরসূরি সুগাকে তিনি সমর্থন দিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য গত ২৮ আগস্ট ‘২০ শুক্রবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ক্ষমতা থাকা সত্বেও এক বছর পূর্বেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিনজো আবে।.

ছবি – ইন্টারনেট
সহযোগিতায় – Takazawa Tomoyuki
rahmanmoni@gmail.com

About S Chowdhury

Check Also

টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধন

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার ২০২০ সালকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *